দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অবৈধভাবে মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসে কনে খোঁজার বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস। মানবপাচারের ঘটনা বাড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় এই সতর্কতা জানানো হয়।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দালাল বা অবৈধ ম্যাচমেকিং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে গিয়ে স্ত্রী খুঁজলে মানবপাচারের সন্দেহে গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে পারেন চীনা নাগরিকরা।
বাংলাদেশের আইনে মানবপাচারের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে এই শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া মানবপাচারে প্ররোচনা দেওয়ার মতো অপরাধে তিন থেকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সীমান্তপারের বিয়েকে ঘিরে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিয়ে পারস্পরিক সম্মতি ও প্রকৃত সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়া উচিত উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, কনে কেনাবেচার প্রবণতা প্রায়ই আর্থিক প্রতারণা ও শারীরিক ঝুঁকির দিকে নিয়ে যায়।
চীনে আন্তর্জাতিক বিয়ের মধ্যস্থতাকারী বাজার অবৈধ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে নারী-পুরুষের ভারসাম্যহীনতার সমস্যায় রয়েছে। ২০২০ সালের জাতীয় জনশুমারি অনুযায়ী, চীনে বিয়ের উপযুক্ত পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ বেশি।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিয়ের বাজার নিয়ে চীনের উদ্বেগ বেড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বিদেশি নাগরিকদের বৈবাহিক পাচার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নাগরিকদের বড় অঙ্কের অর্থ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে।
গত কয়েক বছরে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে থাকা চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
চীনের সর্বোচ্চ জনগণের অভিশংসক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানবপাচার ও প্রতারণামূলক বিয়ে সংক্রান্ত অপরাধে এক হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে চীনা পুরুষরা স্ত্রী খুঁজে পেতে কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করার পর দেখেছেন, বিদেশি নারীরা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছেন। আবার কিছু ঘটনায় নারীদের অপহরণ করে চীনা পুরুষদের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত বছরের মার্চে মাদাগাস্কারে আট চীনা নাগরিককে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া চীনের হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশের পুলিশ সম্প্রতি যৌথ অভিযান চালিয়ে বিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। মিয়ানমারের তিন নারী স্বীকার করেছিলেন, তারা বিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই চীনে এসেছিলেন। ওই অভিযানে ৬৩টি ফৌজদারি মামলা, ৩৩টি প্রশাসনিক শাস্তি এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, মানবপাচারকারী ওই চক্রের কার্যক্রম চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে বিস্তৃত ছিল।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
/অ